বড়দিন মানেই কেক-সংস্কৃতির আবহ। নিউ মার্কেট থেকে বো ব্যারাক, অন্যরকম কেকের স্বাদে ছুটে যায় বাঙালি। তবে কেক কিনতে এবার দেখা গেল মিষ্টির দোকানে ভিড়। না, শুধু মিষ্টি নয়, সেইসঙ্গে অপরূপ স্বাদে-গন্ধে একেবারে অন্যরকম কেক উপহার দিল হাওড়ার সালকিয়ার ব্রজনাথ গ্র্যান্ড সন্স। এতদিন ট্রাডিশনাল থেকে ফিউশন মিষ্টিতে মন ভরিয়েছে সালকিয়ার শতাব্দীপ্রাচীন এই দোকান। বছর পাঁচেক শুরু করেছে কেক তৈরি। তাতেই মাতোয়ারা বাঙালি। ক্রিম কেক, ফ্রুট কেক, সুগার ফ্রি কেক, পাম কেক, নলেন গুড়ের কেক সবই হাজির তাদের ভাণ্ডারে। সবই এগলেস। তাই নিশ্চিন্তে আট থেকে আশি সকলেই স্বাদ নিয়েছেন। স্বাধীনতার অনেক আগে প্রতিষ্ঠা এই দোকানের। বংশ পরম্পরায় চলছে এই ব্যবসা। আগে অভিজিৎ দাসের বাবা অসীম দাস সামলেছেন, এখন ছেলেই সামলান। দিনে দিনে চাহিদা বাড়ছে। ক্রেতাদের সুবিধের কথা মাথায় রেখেই দক্ষিণ কলকাতায় লর্ডসের মোড়েও আউটলেট খুলেছে ব্রজনাথ গ্র্যান্ড সন্স। শুধু কেক বিক্রিই নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতাটুকুও এমন বিশেষ দিনে ভোলেননি দোকানের কর্ণধার অভিজিৎ দাস। তিনি জানান, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া প্রায় তিরিশজনেরও বেশি স্কুল পড়ুয়াকে এদিন আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বড়দিন উপলক্ষ্যে। তাদেরকেই কেক উপহার তুলে দেন অভিজিৎ দাস। এতদিন রসগোল্লা উৎসব পালন করে এসেছেন। এবার কেক উৎসবও শুরু করলেন। অভিজিৎ দাস জানান, ‘বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বনে বছর শেষে এখন যুক্ত হয়েছে কেক উৎসব। কেক খাবে না বড়দিনে, তা হয় না। এই ক’টা দিন দেদার বিকোয় কেক।’ স্কুল পড়ুয়ারাও খুশি ব্রজনাথ গ্র্যান্ড সন্সের কেক খেয়ে। ব্রজনাথের রাবড়ি খায়নি, এমন মিষ্টিপ্রেমী খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। মেশিনের যুগেও এখনও হাতে গড়া রাবড়িই তৈরি করে ব্রজনাথের দোকানে। পাশাপাশি ক্রমশ জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌছচ্ছে ব্রজনাথ গ্র্যান্ড সন্সের কেকও।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *