সল্টলেকের ডাউনটাউন মলের মেওয়ার ব্যাঙ্কুয়েট হল রবিবার সন্ধ্যায় পরিণত হয়েছিল এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক পরিবেশে, যখন শত শত ওশো অনুরাগী, সন্ন্যাসী এবং সাধক সমবেত হন স্বামী শৈলেন্দ্র সরস্বতী-র নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ধ্যান সৎসঙ্গে। ওশোর ছোট ভাই ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ধ্যান গুরু এই বিশেষ সৎসঙ্গের মাধ্যমে ধ্যানের প্রভাব ও গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সৎসঙ্গের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল —
“জীবনে ধ্যানের প্রভাব: ভারসাম্য, স্বাস্থ্য, শান্তি এবং আধ্যাত্মিক আনন্দ।”
স্বামীজি বলেন, “ধ্যান কেবল বসে থাকা নয়—এটি এক নতুন জীবনপদ্ধতি। ধ্যান মানুষকে নিজের অভ্যন্তরীণ কেন্দ্রে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, যেখান থেকে জীবনের প্রতিটি দিক সুষম ও সুন্দর হয়ে ওঠে।”
সৎসঙ্গের উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ
● জীবনে ভারসাম্য:
স্বামীজি জানান, বর্তমান মুহূর্তে স্থিত হতে পারলেই প্রকৃত ভারসাম্য আসে। এভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয় এবং প্রতিক্রিয়া রূপান্তরিত হয় সচেতন উত্তরে।
● শারীরিক স্বাস্থ্য:
তিনি বলেন, চাপ ও উদ্বেগ মানবদেহের প্রধান শত্রু। নিয়মিত ধ্যান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, প্রাণশক্তি বৃদ্ধি এবং শরীরের জীবনীশক্তির প্রবাহকে সক্রিয় করে।
● মানসিক শান্তি:
অবিরাম চিন্তার ভিড় থেকে মুক্তি পেতে ধ্যানই সবচেয়ে কার্যকর উপায়—
“নীরবতায় নেমে গেলে বোঝা যায়, শান্তিই আমাদের স্বরূপ,” বলেন তিনি।
● হৃদয়ের বিকাশ:
ধ্যান হৃদয়কে উন্মুক্ত করে, করুণা ও ভালোবাসাকে জাগিয়ে তোলে, যা সম্পর্কের মধ্যে সাদৃশ্য আনে।
● আধ্যাত্মিক আনন্দ:
ধ্যান শেষে যে অভ্যন্তরীণ আনন্দ অনুভূত হয় তা কোনও বাহ্যিক কারণের উপর নির্ভরশীল নয়—এটি অস্তিত্বের অন্তর্নিহিত স্বভাব।
ওশোর দর্শন সম্পর্কে বক্তব্য
“কোন ঈশ্বর নেই, আছে ঈশ্বরত্ব”
স্বামীজি ব্যাখ্যা করেন, ঈশ্বর কোনও ব্যক্তি নন; তিনি এক চেতনার উপস্থিতি, যা ধ্যানের মাধ্যমে অনুভব করা যায়।
“কোন ধর্ম নয়, বরং ধর্মীয়তা”
তিনি বলেন, প্রকৃত ধর্ম কোনও মতবাদ বা প্রতিষ্ঠানে নেই; বরং তা সচেতনতার মধ্যেই নিহিত। ধ্যান মানুষকে কুসংস্কার ও কঠোরতার বাইরে এনে জীবন্ত ধর্মীয়তার পথে এগিয়ে দেয়।
প্রশ্নোত্তর পর্ব ও দলগত ধ্যান
সৎসঙ্গের শেষে অংশগ্রহণকারীরা জীবন, সম্পর্ক এবং আধ্যাত্মিকতা নিয়ে নানা প্রশ্ন করেন, যার উত্তর স্বামীজি পরিষ্কার ও সহজ ভাষায় দেন। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় দলগত ধ্যানের মাধ্যমে, যেখানে উপস্থিত সবাই গভীর শান্তি ও আনন্দ অনুভব করেন।
স্বামীজি বলেন,
“ধ্যান কোনও কাজ নয়—এটি জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অবস্থা। সচেতন হলে মানুষ শুধু শান্তই নয়, ভালোবাসা ও আনন্দে ভরে ওঠে।”
কলকাতায় স্বামী শৈলেন্দ্র সরস্বতীর কর্মসূচি
স্বামী শৈলেন্দ্র সরস্বতী, একজন স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত এমবিবিএস ডাক্তার, চিকিৎসা পেশা ছেড়ে দীর্ঘদিন ধরেই আধ্যাত্মিক শিক্ষাদানে নিযুক্ত। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ওশো ফ্রেগ্রেন্স, যা ওশোর দর্শনকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে কাজ করে। তিনি নিয়মিত আন্তর্জাতিক আলোচনাসভা ও পডকাস্টে অংশগ্রহণ করেন।
১ নভেম্বর, তিনি কলকাতা প্রেস ক্লাবে শান্তি ও সম্প্রীতি বিষয়ে এক সংক্ষিপ্ত সেমিনার করেন, যেখানে ভক্ত ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।
২ নভেম্বর, সল্টলেকে অনুষ্ঠিত হয় তাঁর ধ্যানভিত্তিক সমগ্রিক সুস্থতা কর্মশালা।

