২৭শে এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে কলকাতার আহিন্দ্র মঞ্চ অডিটোরিয়ামে পহেলগাঁও-এ সদ্য সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলায় নিহত নিরীহ প্রাণগুলির স্মরণে এক গভীর শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন আলিপুর অশোক বুদ্ধ বিহার, যার নেতৃত্ব দেন অল ইন্ডিয়া বৌদ্ধ ভিক্ষু সমিতির সভাপতি, সর্বজনাব শ্রদ্ধেয় দীক্ষাল মহাথের।

এই শোকসভায় ২০০-রও বেশি ব্যক্তি, বিভিন্ন পেশা, ধর্ম ও সমাজের স্তর থেকে উপস্থিত ছিলেন, যারা শোক ও একতার অনুভূতি নিয়ে সমবেত হয়েছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডঃ এস. কে. আগরওয়াল, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব লাইফস্টাইল মেডিসিনের পরিচালক। তিনি এক হৃদয়স্পর্শী ভাষণে শান্তি, সহনশীলতা ও আরোগ্যের বার্তা দেন। তাঁর বক্তব্যে ডঃ আগরওয়াল সমাজের প্রতি ঘৃণা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে করুণা, সংলাপ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানমঞ্চ বৌদ্ধ ভিক্ষুদের প্রার্থনা ও ঐক্যের বার্তায় অনুরণিত হয়। দেশের বিভিন্ন বিহার থেকে আগত ২১ জন বৌদ্ধ ভিক্ষু এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং প্রয়াত আত্মাদের শান্তির জন্য ধ্যান ও প্রার্থনায় নেতৃত্ব দেন। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে এক গভীর আধ্যাত্মিক আবহ দিয়েছিল এবং দুঃসময়ে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলির মনোবলকে দৃঢ় করে তুলেছিল।

মিয়ানমারের (বার্মা) কনসাল জেনারেলও এই শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি ভারতের মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং এই বর্বর সন্ত্রাসী ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে মুম্বাইয়ের খ্যাতনামা অভিনেতা মি. গগন মালিক উপস্থিত ছিলেন, যিনি শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং শিল্প ও কর্মের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার গুরুত্বের উপর জোর দেন।

পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের সদস্যরা — মি. সতপাল সিং আহলুওয়ালিয়া, মি. সাইরাস মাদান, মি. বিকাশ বড়ুয়া, ডঃ অরুণজ্যোতি এবং মি. মুকুল বৈরাগী — অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তাঁদের গভীর শোক ও সহানুভূতি প্রকাশ করেন। তাঁদের উপস্থিতি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলির ঐক্য ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানকে প্রকাশ করে।

বিভিন্ন ধর্মের নেতারাও এই সভায় অংশগ্রহণ করেন এবং প্রার্থনা ও বক্তব্যের মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধের জয়গান করেন, যা ধর্মীয় সীমানার ঊর্ধ্বে। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল নীরব প্রতিফলন, সংহতি এবং শান্তি ও সহিষ্ণুতার প্রতি অটল অঙ্গীকারের এক আবহ।

এই শোকসভা কেবলমাত্র শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য ছিল না, বরং সমাজের শক্ত ঐক্যের একটি মাইলফলক হয়ে উঠেছিল। এটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে সন্ত্রাসের মুখোমুখি হয়ে আমরা মানবতা, শান্তি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার আদর্শে আরও দৃঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে পারি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *