সমাজ ও রাজনীতির সক্রিয় অঙ্গন—এই দুইয়ের মাঝেও নিজের অন্তরের নীরব ডাকে সাড়া দিয়ে এক ব্যতিক্রমী পথ বেছে নিয়েছিলেন প্রকাশ কিলা। আজ তিনি পরিচিত স্বামী চেতন নামে—একজন অনুসন্ধিৎসু পথিক, যাঁর জীবন গড়ে উঠেছে ধ্যান, নীরবতা ও আত্ম-জাগরণের দীর্ঘ সাধনায়।
শৈশব থেকেই তাঁর মধ্যে ছিল আধ্যাত্মিকতার প্রতি আকর্ষণ ও নিজেকে জানার গভীর তাগিদ। কিন্তু ১৯৯৬ সালে ওশোর দর্শন ও বচন প্রথমবারের মতো তাঁর সামনে আসার পর তাঁর ভেতরে ঘটে এক বিস্ময়কর পরিবর্তন। ওশোর সেই অনুপ্রেরণাদায়ক বাণী—
“জীবনকে পূর্ণভাবে বাঁচো, সচেতনভাবে বাঁচো”
তাঁকে নতুন দিশা দেখায়।
২০০০-এর দশকের শুরুতে তিনি ওশোর পথে দীক্ষা গ্রহণ করেন এবং সংন্যাসে প্রবেশ করেন। দীক্ষার পর তিনি পান নতুন নাম— স্বামী চেতন, যা তাঁর জীবনে সচেতনতা, সাম্য ও আনন্দের প্রতীক হয়ে ওঠে।
দীক্ষার পর তাঁর আধ্যাত্মিক অন্বেষণ আরও বিস্তৃত হয়। তিনি অংশ নেন অসংখ্য ওশো ধ্যান শিবির, রিট্রিট ও আধ্যাত্মিক কর্মশালায়। পুনের ওশো ইন্টারন্যাশনাল মেডিটেশন রিসোর্ট তাঁর সাধনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে তিনি গভীর ধ্যানে নিমগ্ন হন এবং অসংখ্য সাধকের সঙ্গে ভাগ করে নেন সেই শান্তি ও আনন্দ।
ওশোর ধ্যানপথকে কেন্দ্র করে স্বামী চেতন ভ্রমণ করেন ভারতের নানা স্থানে—ওশো ধারা (মুরথল, হরিয়ানা), ওশো গঙ্গাধাম (ঋষিকেশ), ওশো গ্রাম, নীসর্গ, বিশ্বাস ধ্যান কেন্দ্র (হিমাচল), ওশো তপোবন (নেপাল), চাঁপা, জবলপুর, নাসিক, দমোহ, চক্রপুরা (জয়পুর), কর্ম বিহার, বিপাসনা কেন্দ্র, পিরামিড মেডিটেশন সেন্টার ও বাঙ্গালোরের আর্ট অফ লিভিং-সহ বহু আধ্যাত্মিক কেন্দ্র।
তিনি ওশোর বহু ধ্যানপদ্ধতি—ডায়নামিক মেডিটেশন, কুণ্ডলিনী, নাদ ব্রহ্মা ও হোয়ারলিং—নিজের দৈনন্দিন সাধনার অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলেছেন।
ধ্যানপথের পাশাপাশি তিনি পাড়ি দিয়েছেন ভারতের বহু পবিত্র স্থানে—কাশী, প্রয়াগরাজ, উজ্জয়িনী, পুরী, দ্বারকা, রামেশ্বরম, কন্যাকুমারী, মাদুরাই, তিরুপুর, তিরুপতি, ভীমাশঙ্কর, ত্র্যম্বকেশ্বর, জাগেশ্বর, নাগেশ্বর, গ্রীষ্ণেশ্বর, কালহস্তি, চিত্রকূট, নিম করোলি, বৈদ্যনাথ, বাসুকিনাথ, নৈনা দেবী, চামুণ্ডা, নৈনিতাল, নীলকণ্ঠ, জ্বালা দেবী, চিত্তপূর্ণী, কামাখ্যা, নলখেড়া, কাংড়া, উত্তরাখণ্ডের বহু আধ্যাত্মিক কেন্দ্র, মথুরা, বৃন্দাবন, অযোধ্যা ও আরও অনেক শাক্তিপীঠ ও ধ্যানস্থান।
তাঁর কাছে এসব যাত্রা কখনোই ছিল না কেবল তীর্থদর্শন—
বরং অন্তরের মন্দির খুঁজে পাওয়ার পথ,
যে মন্দির প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে বিদ্যমান।
স্বামী চেতনের কাছে ওশো শুধুই এক গুরু নন—তিনি জীবনদর্শন, প্রেরণা ও আত্মার আলো। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস—
“ধ্যানই শ্রেষ্ঠ তীর্থ, আর নীরবতাই সত্যিকারের মন্দির।”
আজও সমাজ ও জনজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও ধ্যান ও নীরবতা তাঁর দিনযাপনের অপরিহার্য অংশ। সেবা, ধ্যান ও সচেতনতার সুন্দর মেলবন্ধনে এগিয়ে চলেছে তাঁর আধ্যাত্মিক যাত্রা।
ওশোর ধ্যানপথ, ভারতের পবিত্র ভ্রমণ ও অন্তর্জাগরণের আলোকধারা—এই তিনের সম্মিলনে স্বামী চেতন (প্রকাশ কিলা)-র জীবন আজ এক উজ্জ্বল ও অনুপ্রেরণামূলক আধ্যাত্মিক গাথা।

